পিত্তথলির পাথর: কারণ, লক্ষণ এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন
Reviewed by: Dr. Nitish Kumar Das
Posted on
7 Min Read

Not sure what you’re looking for?
Get in touch with our representatives for help!
Contact Usপিত্তথলি আমাদের যকৃতের নিচে অবস্থিত একটি ছোট অঙ্গ যা পিত্তরস জমা রাখে এবং খাদ্য হজমে সহায়তা করে। পিত্তথলিতে থাকা পিত্তরস যখন সেখান থেকে না বেরোনোর ফলে জমাট বাঁধতে থাকে, তখন সেটি ক্রমশ একটি শক্ত পাথর রূপে পরিণত হয়। এই অবস্থাকেই পিত্তথলির পাথর অথবা গলব্লাডার স্টোন বলা হয়ে থাকে। পিত্তরসের উপাদানগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলে এই পাথরগুলি তৈরি হতে পারে, যা তীব্র ব্যথা এবং জটিলতা সৃষ্টি করে।
পিত্তথলির পাথর কী?
পিত্তথলির পাথর হল পিত্তথলির মধ্যে তৈরি হওয়া কঠিন জমাট বাঁধা পদার্থ। এগুলি সাধারণত কোলেস্টেরল অথবা বিলিরুবিন নামক পিগমেন্ট থেকে তৈরি হয়। এদের আকার বালুকণার মতো ছোট থেকে গলফ বলের মতো বড়ও হতে পারে। পিত্তথলির পাথর প্রায়শই কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না, কিন্তু যখন তারা পিত্তনালীর পথ অবরোধ করে, তখন তীব্র ব্যথা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পিত্তথলির পাথরের লক্ষণসমূহ
অনেক সময় পিত্তথলির পাথর কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না, তবে যখন লক্ষণ দেখা দেয়, তখন তা বেশ কষ্টকর হতে পারে। পিত্তথলির পাথরের প্রধান লক্ষণগুলি হলো:
-
উপরের পেটের ডান দিকে বা পেটের মাঝখানে তীব্র ব্যথা (বিলিয়ারি কলিক), যা পিঠে বা ডান কাঁধে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং খাবার খাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
-
বমি বমি ভাব এবং বমি।
-
বদহজম, বুক জ্বালা এবং পেটে গ্যাস, বিশেষত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর।
-
জন্ডিস (ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া), যদি পিত্তনালী অবরুদ্ধ হয়।
-
মল ও প্রস্রাবের রং বদল।
-
পিত্তথলিতে সংক্রমণ হলে জ্বর ও ঠান্ডা লাগা।
পিত্তথলির পাথরের কারণ
পিত্তথলির পাথরের কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণগুলি হলো:
-
পিত্তরসে কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি।
-
পিত্তথলির অসম্পূর্ণ বা ধীর গতিতে খালি হওয়া।
-
উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত ও ফাইবারবিহীন খাবার গ্রহণ।
-
স্থূলতা এবং দ্রুত ওজন হ্রাস।
-
ডায়াবেটিস, গর্ভধারণ এবং কিছু ঔষধ সেবন।
-
পারিবারিক ইতিহাস।
পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা: কখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়?
পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
-
তীব্র পেটে ব্যথা (বিলিয়ারি কলিক)।
-
পিত্তথলির প্রদাহ।
-
পিত্তনালীতে বাধা, যা জন্ডিস, সংক্রমণ বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
-
পিত্তথলির ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি।
-
অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ যদি পিত্তথলির পাথর দ্বারা সৃষ্ট হয়।
পিত্তথলির পাথরের অপারেশন: ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি ও অস্ত্রোপচার পরবর্তী সুস্থতা লাভ
পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি হল সবচেয়ে প্রচলিত ও কার্যকর পদ্ধতি। এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচারে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ করা হয়। এর সুবিধা হল ব্যথা কম, দ্রুত সুস্থ হওয়া, হাসপাতালে কম সময় থাকা এবং ছোট দাগ। সাধারণত ১-২ সপ্তাহের মধ্যে দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসা যায়, যা পিত্তথলির অস্ত্রোপচার পরবর্তী সুস্থতা লাভে সহায়তা করে।

করণীয় ও বর্জনীয়
পিত্তথলির পাথরের ঝুঁকি কমাতে বা জটিলতা এড়াতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।
করণীয়
-
পুষ্টিকর, ফাইবার সমৃদ্ধ এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন
-
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
-
সঠিক ওজন বজায় রাখুন
-
পর্যাপ্ত জল পান করুন
বর্জনীয়
-
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, ভাজাভুজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
-
দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না
-
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন পরিহার করুন
-
লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং অবহেলা করবেন না
সারসংক্ষেপ
আপনি যদি পিত্তথলির পাথরের লক্ষণগুলি অনুভব করেন বা এই রোগ সম্পর্কে কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়িতে আমাদের অভিজ্ঞ জেনারেল সার্জনদের দল আপনার সঠিক রোগ নির্ণয় ও সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রদানে প্রস্তুত।
Frequently Asked Questions
কিছু ছোট কোলেস্টেরল পাথর নির্দিষ্ট ঔষধ দিয়ে গলানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, তবে এটি সবার জন্য কার্যকর নয় এবং ফলাফল স্থায়ী নাও হতে পারে। বড় পাথরের ক্ষেত্রে ঔষধ সাধারণত কাজ করে না।
হ্যাঁ, পিত্তথলি অপসারণের পর সাধারণ জীবনযাপন করে একেবারেই সম্ভব। শরীর পিত্তথলি ছাড়াই খাদ্য হজম করার ক্ষমতা অর্জন করে।
প্রথমদিকে কিছু হজমের সমস্যা, যেমন পেট খারাপ বা গ্যাস, হতে পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে শরীর মানিয়ে নেয় এবং এই সমস্যাগুলি কমে যায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস,নিয়মিত ব্যায়াম, এবং সুস্থ ওজন বজায় রাখা পিত্তথলির পাথর প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।
উত্তর: ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি-এর পর সাধারণত ১-২ সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ রোগী দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসতে পারেন। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ৪-৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।

