পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (PFT): এটি কি, কেন এটি করা হয় এবং এটি কীভাবে চিকিৎসায় সহায়তা করে
Reviewed by: Dr. Rajesh Agarwal
Posted on
5 Min Read

Not sure what you’re looking for?
Get in touch with our representatives for help!
Contact Usফুসফুস শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, এবং এর সঠিক কার্যকারিতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। পিএফটি (PFT) পরীক্ষা বা পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা হল এক ধরণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা যার দ্বারা আপনার ফুসফুস কতটা ভালোভাবে কাজ করছে তা পরিমাপ করা হয়ে থাকে। এই নিবন্ধে আমরা পিএফটি পরীক্ষা বিষয়ে বিস্তারে আলোচনা করবো, এবং তার সাথে এটি কখন দরকার পরে, এবং কিভাবে এটি ফুসফুসের রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করে, সেটিও দেখবো।
পিএফটি (PFT) পরীক্ষা কি?
পিএফটি পরীক্ষা, যা পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা বা ফুসফুসের ফাংশন পরীক্ষা নামেও পরিচিত, এক ধরণের স্বাস্থ্য পরীক্ষা যা ফুসফুসের কার্যকারিতা পরিমাপের জন্য করা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষাগুলো ফুসফুসের বাতাস ধারণ ক্ষমতা, বাতাসের চলাচল এবং রক্তে অক্সিজেন সরবরাহের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে। তা ছাড়া, এই পরীক্ষাটি শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও তাদের তীব্রতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কেন পিএফটি (PFT) পরীক্ষা করা হয়?
বিভিন্ন কারণে চিকিৎসকরা পিএফটি (PFT) পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এটি শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়েই নয়, বরং বিদ্যমান রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা মূল্যায়নেও সহায়ক।
_%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE.jpg)
-
শ্বাসতন্ত্রের রোগ নির্ণয়: হাঁপানি, সিওপিডি (COPD), ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা ও পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মতো রোগ নির্ণয়ে পিএফটি পরীক্ষা অপরিহার্য।
-
রোগের তীব্রতা মূল্যায়ন: ফুসফুসের রোগের তীব্রতা এবং ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করে।
-
চিকিৎসার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ: নির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রতি ফুসফুসের প্রতিক্রিয়া জানতে পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর।
-
অস্ত্রোপচারের পূর্বে মূল্যায়ন: বড় অস্ত্রোপচারের আগে ফুসফুসের কার্যকারিতা জানতে ফুসফুসের ফাংশন পরীক্ষা করা হয়।
-
কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কর্মরতদের স্ক্রিনিং: ধুলা, রাসায়নিক বা দূষণকারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ফুসফুসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
-
অজানা শ্বাসকষ্টের কারণ অনুসন্ধান: শ্বাসকষ্টের কারণ স্পষ্ট না হলে PFT তা খুঁজে বের করতে সহায়তা করে।
পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা পদ্ধতি: এটি কীভাবে করা হয়?
পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা সাধারণত স্পাইরোমিটার ব্যবহার করে করা হয় এবং এতে বেশ কয়েকটি ছোট পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই পরীক্ষাটির জন্য কোনো কাটাছেঁড়া বা ছিদ্র করা হয়না।
-
স্পাইরোমেট্রি (Spirometry): এতে যন্ত্রে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে বলা হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি ও পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। এটি ফুসফুসের বাতাস গ্রহণ ক্ষমতা এবং নির্গমন গতি পরিমাপ করে।
-
ফুসফুসের আয়তন (Lung Volumes): এই পরীক্ষায় ফুসফুসের মোট ধারণক্ষমতা এবং অবশিষ্ট বাতাসের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়, যা স্পাইরোমেট্রিতে সম্ভব নয়। এটি বডি প্লেথিসমোগ্রাফি বা হিলিয়াম ডাইলুশন পদ্ধতিতে করা হয়।
-
ডিফিউশন ক্যাপাসিটি (DLCO): ফুসফুস থেকে রক্তপ্রবাহে অক্সিজেন পরিবহনে ফুসফুসের ক্ষুদ্র রক্তনালীগুলো কতটা দক্ষতার সাথে কাজ করছে, তা যাচাই করার জন্য এই পরীক্ষাটি করা হয়। পরীক্ষার সময় নাকে ক্লিপ পরিয়ে দেওয়া হয়, এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান নির্দেশ দেন। পরীক্ষাটি সাধারণত 30-60 মিনিট সময় নেয়।
PFT ফলাফল: রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা
পিএফটি পরীক্ষার ফলাফল পালমোনোলজিস্ট বা শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়। এটি ফুসফুসের কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য রোগের ইঙ্গিত দেয়।
-
অবরোধমূলক রোগ: ফুসফুস থেকে বাতাস বের করে দিতে সমস্যা হলে এটি COPD বা হাঁপানির মতো অবস্ট্রাকটিভ অথবা অবরোধমূলক ফুসফুসের রোগ নির্দেশ করে।
-
রেস্ট্রিকটিভ রোগ: নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় সমস্যা অনুভব করলে এটি পালমোনারি ফাইব্রোসিস বা অন্যান্য রেস্ট্রিকটিভ ফুসফুসের রোগ নির্দেশ করতে পারে।
-
রোগের অগ্রগতির মাত্রা নির্ধারণ: ফলাফলগুলি ফুসফুসের অবস্থা অথবা অন্তর্নিহিত রোগ সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র দেয় এবং চিকিৎসার সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় PFT-এর ভূমিকা
পিএফটি পরীক্ষা ফুসফুসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ব্যবস্থাপনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি চিকিৎসকদের নিম্নলিখিত উপায়ে সহায়তা করে:
-
সঠিক ওষুধ নির্বাচন: পিএফটি ফলাফল অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা হাঁপানি বা সিওপিডি-র জন্য সঠিক ওষুধ নির্বাচন করতে পারেন।
-
পালমোনারি পুনর্বাসন: গুরুতর ফুসফুসের রোগীদের জন্য রোগের অগ্রগতি মূল্যায়নে পিএফটি সহায়তা করে।
-
জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: এই পরীক্ষাটির দ্বারা সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় রোগীদের শ্বাসকষ্ট কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
-
দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ: ফুসফুসের রোগ নিয়ে যারা অনেকদিন ভুগছেন, তাদের নিয়মিত পিএফটি (PFT) পরীক্ষা রোগের অগ্রগতি বা স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণে সহায়ক।
করণীয় ও বর্জনীয়
পিএফটি করানোর আগে এবং পরে কিছু বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন:
করনীয়
-
পরীক্ষার 4-6 ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাবেন না। হালকা খাবার চলতে পারে।
-
আরামদায়ক পোশাক পরুন।
-
সকল ওষুধ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা চিকিৎসককে জানান। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের ওষুধের বিষয়ে জেনে নিন।
-
চিকিৎসকের দ্বারা দেওয়া নির্দেশ মনোযোগ সহকারে শুনুন ও অনুসরণ করুন।
বর্জনীয়
-
পরীক্ষার 24 ঘণ্টা আগে ধূমপান করবেন না।
-
পরীক্ষার 6 ঘণ্টা আগে মদ্যপান করবেন না।
-
পরীক্ষার 1 ঘণ্টা আগে কঠিন শরীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করবেন না।
-
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (যেমন চা, কফি) পরিহার করুন।
-
ঠান্ডা লাগলে অথবা জ্বর হলে পরীক্ষাটি স্থগিত রাখুন এবং ডাক্তারকে জানান।
সারসংক্ষেপ
যদি আপনি শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বা শ্বাস-প্রশ্বাস সম্পর্কিত অস্বস্তি অনুভব করেন, তবে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পিএফটি পরীক্ষা আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার একটি নির্ভরযোগ্য উপায় এবং সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক। আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য আজই মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়ির বিশেষজ্ঞ পালমোনোলজিস্ট-দের সাথে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।
Frequently Asked Questions
না, পিএফটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ ব্যথাহীন এবং এটির জন্য কোনো কাটাছেঁড়া বা ছিদ্র করা হয়না।
সাধারণত, পুরো পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পন্ন করতে 30 থেকে 60 মিনিট সময় লাগে। এটি অনেকসময় রোগের মাত্রা এবং অন্যান্য কারণের ওপরও নির্ভর করে।
হ্যাঁ, এই পরীক্ষাটির আগে কিছু প্রধান নির্দেশ মেনে চলা প্রয়োজনীয়, যেমন ধূমপান, মদ্যপান, ভারী খাবার ও কিছু নির্দিষ্ট শ্বাসকষ্টের ওষুধ পরিহার করতে বলা হতে পারে। আপনার ডাক্তার বিস্তারিত নির্দেশনা দেবেন।
সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, নিউমোথোরাক্স বা কিছু চোখের অপারেশনের পর PFT সুপারিশ করা হয় না। গর্ভাবস্থায়ও সতর্কতার সাথে করা হয়। চিকিৎসক আপনার অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সাধারণত, পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বা পরের দিনের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুত হয়। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই ফলাফল বিশ্লেষণ করে আপনাকে জানাবেন।

