মলের সাথে রক্ত? কখন চিন্তিত হবেন এবং কী করবেন
Reviewed by: Manipal Hospitals
Posted on
5 Min Read

Not sure what you’re looking for?
Get in touch with our representatives for help!
Contact Usমলের সাথে রক্ত পড়া এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হতে পারে। এটি হালকা রঙের টাটকা রক্ত বা কালো, আলকাতরার মতো মল আকারে প্রকাশ পেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারণটি তেমন গুরুতর না হলেও, কোনও কোনও ক্ষেত্রে মলের সাথে রক্ত অন্তর্নিহিত কোনও স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এর জন্য দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। এই ব্লগ-এর মাধ্যমে আমরা মলের সাথে রক্ত যাওয়ার কারণ, এর লক্ষণ এবং কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
মলের সাথে রক্ত যাওয়ার কারণ কী?
মলের সাথে রক্ত বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে, যা পাচনতন্ত্রের যে কোনও অংশ থেকে উদ্ভূত হতে পারে। এই রক্তপাতের জন্য যেমন কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সাধারণ সমস্যা দায়ী হতে পারে, তেমনই এটি কোনও গুরুতর রোগ, যেমন কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। এর প্রধান কিছু কারণ হলো:
-
পাইলস (Hemorrhoids): এটি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত-এর অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে সাধারণ কারণ। মলদ্বারের শিরা ফুলে গেলে রক্তপাত হয়, যা সাধারণত মলের সাথে উজ্জ্বল লাল রক্ত হিসেবে দেখা যায়। প্রায় 50% প্রাপ্তবয়স্কদের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
-
অ্যানাল ফিশার (Anal Fissures): এটি মলদ্বারের ত্বকে সৃষ্টি হওয়া ছোট চিড় বা ফাটল। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য বা শক্ত মল ত্যাগের কারণে এটি হয়। অ্যানাল ফিশারের লক্ষণ হিসেবে মল ত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা ও মলের সাথে উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়।
-
ডাইভার্টিকুলোসিস (Diverticulosis): কোলনের গায়ে ছোট ছোট থলির মতো স্ফীতি হয়। এই স্ফীতিগুলি থেকে রক্তপাত হতে পারে, যা সাধারণত ব্যথাহীন হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।
-
কোলাইটিস (Colitis): কোলনের প্রদাহ, যা ক্রোনস ডিজিজ (Crohn's disease) বা আলসারেটিভ কোলাইটিস (Ulcerative colitis)-এর মতো IBD বা ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ-এর কারণে হতে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা এবং মলের সাথে রক্ত দেখা যায়।
-
পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer): এটি হলো পাকস্থলী বা ডিওডেনামের (ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ) আস্তরণে সৃষ্টি হওয়া ক্ষয়। সাধারণত এর উপসর্গ হিসাবে কালো, আলকাতরার মতো মল (melena) দেখা যায়, যা পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাতকে (উপরের অংশ থেকে) ইঙ্গিত করে।
-
পলিপ (Polyps) ও ক্যান্সার (Cancer): কোলন বা মলাশয়ে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধির কারণেও মলের সাথে রক্ত পড়তে পারে। কিছু পলিপ নিরীহ হলেও, কিছু ক্রমে ক্যান্সার কোষে পরিণত হতে পারে। কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ হলো রক্তপাত, মলের অভ্যাসে পরিবর্তন, ও অকারণ ওজন হ্রাস পাওয়া। কোলন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে 5-বছর বেঁচে থাকার হার 90%-এর বেশিও হতে পারে।
-
এসোফেজিয়াল ভ্যারিসেস (Esophageal Varices): এগুলি খাদ্যনালীর ফুলে ওঠা শিরা, যা লিভারের জন্য গুরুতর সমস্যার কারণে হতে পারে এবং এর থেকে মারাত্মক রক্তপাতও সম্ভব।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
মলের সাথে রক্ত দেখা দিলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। তেমন কোনও সমস্যা অনুভব না হওয়ায় এটিকে আগে থেকেই সাধারণ বলে ধরে নেবেন না। নিম্নলিখিত কয়েকটি উপসর্গ দেখলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন:
-
রক্তপাত প্রচুর পরিমাণে হলে বা বন্ধ না হলে
-
মল কালো, আলকাতরার মতো (melena) হলে
-
পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব হলে
-
আপনার মলের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন এলে (যেমন, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া)
-
কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমতে শুরু করলে
-
আপনার পরিবারে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা
আপনার ডাক্তার রক্তপাতের কারণ নির্ণয় করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে:
-
শারীরিক পরীক্ষা এবং মলদ্বার পরীক্ষা
-
রক্তাল্পতা যাচাই করতে রক্ত পরীক্ষা (CBC)
-
পাচনতন্ত্রের নিচের অংশ পরীক্ষা করার জন্য কলোনোস্কোপি। অত্যন্ত কার্যকর এই পদ্ধতিতে একটি নমনীয় নল ব্যবহার করে কোলন এবং মলাশয়ের ভেতরের অংশ দেখা হয় এবং প্রয়োজনে বায়োপসি নেওয়া হয়। প্রায় 85% ক্ষেত্রে কলোনোস্কোপি রক্তপাতের উৎস সঠিকভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম
-
পাচনতন্ত্রের উপরের অংশে রক্তপাতের উৎস নির্ণয়ের জন্য এন্ডোস্কোপি
-
গুপ্ত রক্ত শনাক্ত করার জন্য বিশেষ মল পরীক্ষা
চিকিৎসা নির্ভর করে মলের সাথে রক্ত যাওয়ার কারণ-এর উপর। চিকিৎসার পদ্ধতি হতে পারে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ, কিংবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার। উদাহরণস্বরূপ, পাইলস-এর ক্ষেত্রে সাধারণত জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ যথেষ্ট হতে পারে, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে ব্যান্ডিং বা হেমোরয়েডেক্টমির মতো পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু বিশেষ নিয়ম
-
ঝাল, তৈলাক্ত এবং অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
-
প্রচুর পরিমাণে জল খান
-
দ্যতালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখুন
-
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
-
মল ত্যাগের সময় চাপ দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন
-
উপসর্গ দেখা দিলে উপেক্ষা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন
-
স্বয়ং রোগ নির্ণয় করার চেষ্টা করবেন না
-
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না
সারসংক্ষেপ
মলের সাথে রক্ত দেখা গেলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়ির গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল সাইন্স বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করেন। আপনার বা আপনার প্রিয়জনের এমন কোনও উপসর্গ থাকলে আজই মণিপাল হসপিটালস-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন এবং সুস্বাস্থ্যের পথে এগিয়ে চলুন।
Frequently Asked Questions
সাধারণত, মলের সাথে উজ্জ্বল লাল রক্ত পাচনতন্ত্রের নিচের অংশ থেকে (যেমন মলদ্বার বা কোলনের শেষ অংশ) রক্তপাত নির্দেশ করে, যা পাইলস বা অ্যানাল ফিশারের কারণে হতে পারে।
কালো বা আলকাতরার মতো মল (melena) সাধারণত পাচনতন্ত্রের উপরের অংশ (যেমন পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্র) থেকে রক্তপাত নির্দেশ করে। রক্ত পরিপাক নালীর অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে এমন রঙ ধারণ করে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার এবং 50 বছর বয়সের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা (যেমন কলোনোস্কোপি) কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন, পাইলস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলের সঙ্গে রক্ত দেখা যেতে পারে। তবে, যে কোনও ধরনের রক্তপাতকে অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক কারণ নির্ণয় ও নিরাপদ চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হ্যাঁ, কিছু ওষুধ, যেমন আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা বিসমুথ সাবস্যালিসাইলেট, মলকে কালো করতে পারে, যা রক্তের সাথে বিভ্রান্ত হতে পারে। তবে, নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

