বর্ষায় জলবাহিত রোগ: প্রতিরোধ ও চিকিৎসার উপায়
Reviewed by: Manipal Hospitals
Posted on
5 Min Read

Not sure what you’re looking for?
Get in touch with our representatives for help!
Contact Usবর্ষাকালে জলবাহিত রোগ-এর প্রবণতা বাড়ার ফলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ে। বৃষ্টির জল জমে পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়, যা এই ধরণের অসুস্থতার প্রকোপ ৩০%-৫০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগগুলি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে প্রস্তুত এই ব্লগ।
বর্ষাকালে জলবাহিত রোগ কেন বাড়ে?
বর্ষাকালে নানাবিধ কারণে পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়। ফলস্বরূপ, এই দূষিত জলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোগের প্রভাব বাড়তে দেখা যায়। এই সময়ে বাড়তে থাকা জলবাহিত রোগের কারণসমূহ হল:

-
দূষিত পানীয় জল- বন্যা বা বৃষ্টির কারণে পানীয় জলের উৎস (কূপ, টিউবওয়েল) দূষিত হতে পারে।
-
অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা- দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নোংরা জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে যায়।
-
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি- অপরিষ্কার হাতে খাবার বা জলের সংস্পর্শ জলবাহিত রোগ ছড়ায়।
-
অপরিষ্কার খাদ্য- দূষিত জলে ধোয়া বা খোলা খাবার সংক্রমণ ঘটায়।
-
মশা ও অন্যান্য বাহক- জমে থাকা জল ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
জলবাহিত রোগের উপসর্গ
জলবাহিত রোগ-এর লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রমণের ২-৩ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়। রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সময়মতো উপসর্গগুলি সনাক্ত করে, যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা জরুরি। জলবাহিত রোগের লক্ষণসমূহ হল:
-
ডায়রিয়া- এটি জলবাহিত রোগের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ, যা গুরুতর পানিশূন্যতা ঘটাতে পারে।
-
বমি- বারবার বমি হওয়া এবং পেটে ব্যথা হওয়াও একটি সাধারণ লক্ষণ।
-
পেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প- পেটে তীব্র ব্যথা বা মোচড় অনুভব হতে পারে।
-
জ্বর- কিছু কিছু জলবাহিত রোগের ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বর হতে পারে।
-
শরীর ব্যথা- মাথা ব্যথা এবং সারা শরীরে দুর্বলতা বা ব্যথা অনুভব হতে পারে।
-
ক্ষুধামন্দা- রোগীর খাওয়ার প্রতি অনীহা দেখা দিতে পারে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি?
পরিস্থিতি বাড়াবাড়ি পর্যায় চলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা করা বাঞ্চনীয়। নিম্ন উপসর্গগুলি বিপদের সঙ্কেত হতে পারে, তাই অবিলম্বে ডাক্তারের দ্বারস্থ হন:
-
দিনের মধ্যে একাধিকবার গুরুতর ডায়রিয়া বা বমি
-
তীব্র পেটে ব্যথা, যা ক্রমাগত বাড়ছে
-
প্রচণ্ড জ্বর (১০২°F বা তার বেশি)
-
শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রমাগত কান্না, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা শুষ্ক ঠোঁট
-
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাব না হওয়া (শরীরে জলের ঘাটতির লক্ষণ)
জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়
জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৮০% ক্ষেত্রে জলবাহিত রোগ-এর সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব:
নিরাপদ জলের ব্যবহার
-
জল ফুটিয়ে খান- খাওয়ার আগে অন্তত ২০ মিনিট ধরে জল ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন
-
ফিল্টার ব্যবহার করুন- উন্নত মানের ওয়াটার ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন। তবে নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার ও প্রতিস্থাপন করতে হবে
-
বোতলজাত জল- খাওয়ার জলের বিষয়ে নিশ্চিত না হলে বোতলজাত জল পান করুন
-
জল সংরক্ষণ- জল সবসময় পরিষ্কার ও ঢাকা পাত্রে সংরক্ষণ করুন
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি
-
হাত ধোয়া- খাওয়ার আগে, পরে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান ও জল দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি ৪০-৫০% কমে
-
নখের পরিচ্ছন্নতা- নখ ছোট করে কেটে এবং পরিষ্কার করে রাখুন
নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস
-
খাবার ঢেকে রাখুন- তৈরি খাবার সবসময় ঢেকে রাখুন যাতে মাছি বা ধুলোবালি না লাগে
-
কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলুন- স্যালাড বা ফল, যা ভালো করে ধোয়া হয়নি, তা এড়িয়ে চলুন
-
ভালো করে রান্না করা খাবার- মাংস, মাছ ও ডিম ভালো করে রান্না করে খান
-
ফল ও সবজি ধোয়া- ফল ও সবজি পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিন
পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা
-
জলাবদ্ধতা দূর করুন- বাড়ির আশেপাশে জল জমতে দেবেন না। এটি মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করে
-
আবর্জনা সঠিক স্থানে ফেলুন- ময়লা ও আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন এবং তা নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করুন
-
পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা- নিশ্চিত করুন যে আপনার বাড়ির পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সুপরিকল্পিত এবং কার্যকরী
এর চিকিৎসা কী?
জলবাহিত রোগের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ-ভিত্তিক এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো শরীরে জলের ঘাটতি রোধ করা। সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে বেশিরভাগ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই সময়ে উচিত:
-
পরিষ্কার ও ফুটানো জল খাওয়া এবং সবসময় নিরাপদ জল ব্যবহার করা
-
ডিহাইড্রেশন এড়াতে ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) গ্রহণ করা
-
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ করা
-
হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া (যেমন ভাত, ডাল, স্যুপ)
-
হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা- খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে
-
কাঁচা বা অপরিষ্কার খাবার এড়িয়ে চলা
-
বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরকে সুস্থ হতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া
-
গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া
কিছু সাধারণ নিয়ম
|
করণীয় |
বর্জনীয় |
|
ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করুন |
আগাছাপূর্ণ বা খোলা জায়গার খাবার খাবেন না |
|
নিয়মিত সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোন |
অপরিশোধিত বা দূষিত জল পান করবেন না |
|
ফল ও সবজি ভালো করে ধুয়ে খান |
ভিজা বা নোংরা হাতে খাবার স্পর্শ করবেন না |
|
খাবার ঢেকে রাখুন |
বাড়ির আশেপাশে জল জমতে দেবেন না |
|
ডায়রিয়া হলে ORS বা লবণ-চিনির জল পান করুন |
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ গ্রহণ করবেন না |
সারসংক্ষেপ
বর্ষাকালে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, তাই সামান্য উপসর্গকেও অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মণিপাল হসপিটালস আপনার সুস্থতার বিশ্বস্ত সঙ্গী। আজই মণিপাল হসপিটালস শিলিগুড়িতে জেনারেল মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন এবং বর্ষার সময় সুস্থ থাকুন।

