কেন মূত্রনালীর সংক্রমণ বারবার ফিরে আসে? বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণের আসল কারণসমূহ
Reviewed by: Dr. Prasanna Kumar Mishra
Posted on
7 Min Read

Not sure what you’re looking for?
Get in touch with our representatives for help!
Contact Usমূত্রনালীর সংক্রমণ অথবা ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন (UTI) একটি সাধারণ সমস্যা যা ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হন। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে UTI চিকিৎসা ভারত জুড়ে পাওয়া যায়, মহিলাদের ক্ষেত্রে কিন্তু এটি বারবার ফিরে আসতে পারে। এটি কেবল কষ্টদায়কই নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। এই নিবন্ধে মূত্রনালির সংক্রমণ, ও তার বিরুদ্ধে যা চিকিৎসা প্রকল্প ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেই বিষয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে।
মূত্রনালীর সংক্রমণ কী?
মূত্রনালী হল কিডনি ও মূত্রাশয় সহ একটি ব্যবস্থা। যখন ব্যাকটেরিয়া এর মধ্যে প্রবেশ করে, তখন সংক্রমণ হয়। প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রস্রাবের সময় জ্বালা অনুভব করা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ও তলপেটে ব্যথা। সাধারণত, প্রাথমিক UTI অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সফলভাবে নিরাময় করা যায়, তবে বারবার ফিরে আসলে সেটির জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কেন মূত্রনালীর সংক্রমণ বারবার ফিরে আসে?
যদি এক বছরে তিনবার বা ছয় মাসে দুবার বা তার বেশিবার UTI হয়, তাকে বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ বলে। গবেষণা অনুযায়ী, মহিলারা যারা একবার UTI-তে আক্রান্ত হন, তাদের ছয় মাসের মধ্যে এটি আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মূল কারণগুলো হল:
-
শারীরিক গঠন: মহিলাদের মূত্রনালী পুরুষদের চেয়ে ছোট ও মলদ্বারের কাছে হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করে। মহিলাদের মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের পরামর্শ বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
-
অসম্পূর্ণ চিকিৎসা: অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ না করা বা ভুল অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে।
-
যৌন কার্যকলাপ: মিলনের সময় ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করতে পারে, যা থেকে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
-
অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা: ভুলভাবে পরিষ্কার করা বা অসুম্পূর্ণভাবে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা।
-
স্বাস্থ্যগত অবস্থা: ডায়াবেটিস, কিডনিতে পাথর, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা মূত্রনালীর ব্লকেজ ইউটিআই-এর ঝুঁকি বাড়ায়।
-
মেনোপজ: মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ায় যোনিপথের টিস্যু পাতলা হয়, যা বারবার UTI হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
-
ডায়াফ্রাম/শুক্রাণুনাশক: এগুলি মূত্রাশয়ে চাপ বা ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে ঝুঁকি বাড়ায়।
মহিলাদের মধ্যে বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ: প্রতিরোধমূলক টিপস
মহিলাদের মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের পরামর্শগুলো মেনে চললে পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব:
-
প্রচুর জল পান: প্রতিদিন 8-10 গ্লাস জল পান করলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
-
প্রস্রাব আটকে রাখবেন না: প্রস্রাব ধরে রাখলে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে।
-
সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন: মলত্যাগের পর সঠিকভাবে নিজেকে পরিষ্কার করুন।
-
যৌন মিলনের আগে ও পরে প্রস্রাব: এটি ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
-
সঠিক পোশাক: সুতির ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরুন।
-
অ্যারোমাযুক্ত পণ্য পরিহার: যোনিপথের ভারসাম্য নষ্টকারী পণ্য ব্যবহার করবেন না।
-
ক্র্যানবেরি সেবন: কিছু গবেষণায় এটি UTI প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
-
গণশৌচাগার ব্যবহার কম করা: গণশৌচাগার ব্যবহার কম করুন, ও ব্যবহারের আগে সেখানে জল ঢালুন বা জীবাণুনাশক স্প্রে ছড়িয়ে দিন।
-
ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু বা বন্ধ করবেন না।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
যদি আপনার বারবার UTI হয় বা গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়, দ্রুত একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
-
বারবার সংক্রমণ ফিরে আসা সত্ত্বেও উপসর্গ গুরুতর হলে।
-
প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে।
-
জ্বর, ঠান্ডা লাগা, পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হলে (কিডনি সংক্রমণের লক্ষণ)।
-
প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসায় উন্নতি না হলে।
সারসংক্ষেপ
বারবার সংক্রমণে ভুগলে বা লক্ষণ দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মণিপাল হস্পিটালস মুকুন্দপুর-এ উন্নত UTI চিকিৎসা ভারত জুড়ে রোগীদের জন্য প্রদান করা হয়। আমাদের অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট দল অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক ও ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা ব্যবহার করে। আমাদের লক্ষ্য সংক্রমণ নিরাময় করা, পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। আপনার স্বাস্থ্য আমাদের অগ্রাধিকার। মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর-এ বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্টদের সাথে আজই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।
Frequently Asked Questions
পুরুষদের মধ্যে মূত্রনালীর সংক্রমণ নারীদের তুলনায় কম হলেও, সেটি হওয়া সম্ভব। তবে, অরক্ষিত বা বেপরোয়া যৌন কার্যকলাপ পুরুষদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সাধারণ UTI-এর জন্য 3-7 দিনের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স থাকে। গুরুতর সংক্রমণে চিকিৎসার সময় বাড়তে পারে।
হ্যাঁ, পর্যাপ্ত জল পান, সঠিক পরিচ্ছন্নতা, প্রস্রাব আটকে না রাখা ইত্যাদি মূত্রনালীতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।
সঠিক চিকিৎসা না করালে কিডনি সংক্রমণ বা সেপসিসের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
কম বয়সী মেয়ে, যৌন সক্রিয় মহিলা, মেনোপজ পরবর্তী মহিলা এবং বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি।

